♥মনুষ্য♥
মনুষ্য
-ঃ নাসরুল কবির
"পৌষের আক্ষেপ আজ
পড়েছে ক্ষ্যাপার দেহে।
সমাজের মানুষ মাস্তি করে,
ঢিল মেরে তার গায়ে।
আজ ক্ষ্যাপা বড় ক্ষুধার্ত!
কার কাছে চাইবে অন্ন!?
আজতো সবাই শূন্য!
তাইতো ক্ষ্যাপা নিজের পেটে
করছে আঘাত জঘন্য।।
শূন্য শরীর নিয়ে সে
সামনে দিল হাটা..
যত হাটছে তত খাচ্ছে
পাগলের ঢিল ঝাাঁটা।
আজ পাগল বলে তাকে মোরা
করছি অপমান,
কালসে প্রাতে পাবেরে সে
নোবেলের সম্মান।
খুদায় তাহার দুচোখ যে লাল,
খাবার চাইলে পাগল বলে
কাটছি কথার জাল।।
ওরে মূর্খ্যরা তবে শুন,
এ পাগল নয়!
তার ভেতর রয়েছে স্থীর গুন।
কাকে বলবে সে গুনের কথা!
মারছে সবাই কিলঝাটা।
এ স্থানেও তার নেই যে ঠায়,
সবাই বলে অন্য গ্রহে মরগে যায়!
ক্ষ্যাপা শুধু হেটেই চলছে
দুপায়েও জং ধরেছে।
হঠাৎ ক্ষ্যাপা শুনতে পেল
আল্লাহ নবীর গান...
সেখান টাতে বসে ক্ষ্যাপা
খুশিতে ম্লান।
এখানকার মানুষ গুলো সভ্য,
আজ খিদাটা মিটিয়েই ফেলব!
দাঁড়িয়ে পড়িলো লাইনে সে
কলার পাতা নিয়ে,
ইমাম সাহেব ধাক্কা দিলেন
পড়লো খালে গিয়ে।।
দুচোখ জোড়া টিপ টিপ
পৌষে এলো বৃষ্টি,
আজতো সে পাগল বলে
রাখেনা কেও দৃষ্টি।
সামনে গিয়ে শুনতে পেল
সঙ্খের উচ্চ শব্দ,
আজ হয়তো খাবার পাবে
তাইতো সে নিস্তব্ধ।
সবাই বোসে যোজ্ঞ করছে
গোবিন্দের খুশি রাখতে।
মায়ের সামনে অসুর বলছে;
এই পাগলকে বল ভাগতে!!
ভজন, পূজন শেষে সবাই
প্রসাদ নিয়ে ব্যস্ত,
খাবার চাইলো ক্ষ্যাপা
ঠাকুর হল ক্ষিপ্ত!
দমে তালে ক্ষাপা বুঝলেন
নেই তার খাবার।
সবাই সবার ধর্ম নিয়ে
করছে সমাচার!
আজ মানুষ বলে কিছু
নেই ভুবনে!
তাইতো পাগল মগ্ন হল
সে দুর্ভীনে।
যেখানটাতে মানুষ চেনে!
নেইতো কোন ঘৃনে।।
কে আল্লাহ! কে ভগবান!
দিয়েছেন কেন মানুষে মানুষে দহন?
মানুষ যদি মানুষ ভজতো,
আল্লাহ হরি কেবা খোঁজতো।
তবে হে মানব শুনো!?
মানুষেই বানিয়েছেন ধর্মকর্ম,
গুনিজনদের বানি বুনো।।

