ময়ূর পঙ্খী নাঁও
গ্রাম ছেড়ে শহরে থাকা সময় গুলো ছিলো উদাসিনতায়, স্পেস থাকা কর্পোরেট দাসত্ব ছেড়ে দু'দিন পর পর হাতিয়া চলে যেতাম প্রাণেরটানে, যাত্রাপথ বেছে নিতাম প্রিয় নদী।
যদিও হাতিয়া যাওয়ার একমাত্র রুট এই নদী'ই....
তবুও আগে যাবার হুতাশন ছিলো নারী,নাড়ীনক্ষত্র ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছুরই টানে...
খুলনা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে দিনের প্রথমপ্রহরে হাতিয়ার প্রথম প্রান্তে (শান্তিপুর ঘাট)
এই ঘাট ঐ ঘাট বারোঘাটের জল খেয়ে জোয়ারের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম, নদী নৌকা দেখতে দেখতে ভরদুপুরে মায়েরদুয়ারে....
মায়ের কাছে অল্প সময় বেয় করে আবার বেরিয়ে পড়তাম কাজীরবাজার,কমলার দিঘী, সূর্য্যমুখী বিভিন্ন নিরবস্থানে, রাতে বাসায় ফিরে সকালে আবার একি পথে শহরের উদ্দেশ্যে....
বারো তারিখে হাতিয়ায় ঢোকা, তেরো তারিখে কাপান্নিত হৃদয়ের আর্তনাদে এই লেখা, তখন মনে যা আসতো তাই লিখতাম...
ও মাঝিরে~
তুই কোন রূপে তরীবৈঠা ধরিস.!
সাধ না মিটে যত দেখি..।
ময়ূরপঙ্খী ভাঙ্গা নায়ে,
উজানে কী করে বাস..!
ভয় নাই তাই নদীই তবে,
তোর নিশ্বাস..।।
ও মাঝিরে~
পালকি তোলে তোর'ই নায়ে,
উজানে আজ বাওরে;
তুই পাল তুলেদে তরী খানায়,
বঁধু যাবে গাঁয় রে-
ও সে উজান বেয়ে ভাইধনের দেশে
নাচবে মাথার কেশ..।।
অকুলে প্রাণ ভেসে যায়রে
দুলেযে নাও ঢেউয়ে,
অন্তরিক্ষ কালোঘনে উতাল হাওয়া বহে..।
ও মাঝিরে~
উচাটন মন কান্দে গাঁয়ের টানে প্রাণ,
মাঝি শৈবালিনী উতাল বহে
ঢেউ খেলে জল নয়নে-
চিরচেনা আঁচলে মুখ লুকিয়ে শয়নে।
ও রে সুর ধরে নাওরী কান্দে,
যাক ভেসে ভয় রেশ..।।
"ময়ূর পঙ্খী নাঁও"
সময়কাল
১২ জুলাই ২০১৭


0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home