Tuesday, 13 May 2025

মা-maa

 "মা"

 নির্মাণকাল ১৩/০৫/২০সতেরো। 


'মা' আমার স্বর্গের ফুল-

ভুলের পরে মা'ই আমার কূল।

মা আমায় করেছে মহৎ-

   মা'ই আমার জগৎ,

মায়ের নন্দন যদি করে দ্বন্দ্ব-

গর্ভধারিণী হয়ে যায় নিস্তব্ধ।

তনয় যদি হয় শিখা-

মা করে সেই ভুলের কৃপা।


মা,

মাগো তুমি আমার অবনী-

তুমিই আমার সমীরণ,

তুমি আমার মিত্র

-

তুমিই মা আমার জীবনের সূত্র।


মা তুমি আমায় করেছ 'জন'

তুমি আমার 'দুলোচন'-

আত্নজ হয়  বিহঙ্গম,

পুত্র আশা অবধি আহার করেনা মা

 বসে একা নিকেতন।


মাগো তুমি আমার বসুধা-

তুমিই আমার পবন।

তুমিই মা "তম" আমার

মাগো তুমিই আমার গগন। 


মাগো তুমি আমার ত্রিদশ ভবে-

তুমিই আমার তৃষ্ণার জল।

তুমি আমার অমূল্য "মা"

সর্গের'ই হিরণ।


তোমার ঈপ্সায় ফোটেছে মা

আমার'ই অদৃষ্ট,

তাইতো  আমার এজনমে করিবো 

তোমার "কন্দর্প"।।

Wednesday, 5 March 2025

~অগ্নিডানা~

 উড়ছি আমি ঘুরছি আমি 

কাটছি সাঁতার জলে,

সমারোহে বাস আমার

আহার ফুলেফলে...

তৃষ্ণায় আমি মাটি ছুঁয়ে,

ডানায় আগুনজ্বলে~


মেঘের পানে ডানা দুটি 

জল পালকের আঁকাআঁকি

আকাশ চমকে ঝড়ের স্রোতে 

উড়িয়ে নিলো মধ্য রাতে।

সূর্য্য উঠে দেখে আমার,

ডানায় আগুনজ্বলে~


আমি একটা পাখি, 

আমার ইচ্ছেমতো থাকি।

আমি ইচ্ছেমতো ডাকি,

আমার ঘরখানা আমি বাঁধি।


আকাশ পানে চেয়ে

 দুচোখ আশান্বিত জল,

মেঘ বলে দুটি পায়ে

জলের খোঁজে চল।

পালক পাতায় ফাগুনরঙ্গে

ডানায় আগুনজ্বলে~


~অগ্নিডানা~

২০শে ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৫ই মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ 

৪ রমজান ১৪৪৬ হিজরি

Saturday, 18 January 2025

রাজধার্ম

 এই তোমার রাজনীতি..?

ধর্ম নামক দর্শনের সঙ্গে, ফ্যাসিবাদী ফিলোসোফি ধারণকরে নর্তকির স্তনের ফাঁকে আটকায়ে-

খেমটায় নাচছো..!?

এ....ই নাচ কালীরে কলা দেখানো সাঁই।

কৌতূহল বসে,

কৌতুকের আন্ডারে 

কৌশলে ঢুকিয়ে নিলাম, 

তুমিও বেহেশত উপভোগ করো।


~রাজধার্ম~

২২শে পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬ই জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

৫ রজব ১৪৪৬ হিজরি

Sunday, 29 December 2024

শিকারী ২.০

 নদীর জলে নড়েচড়ে-

উড়ে শ্যাম কানাই।

গাঙচিল ভেসে বেড়ায়, কচুরিপানায়।

 

আন্ধাপুকুর ভেঙ্গে গাঙ্গে,

ভাসে ডাহুক ঢেউতরঙ্গে।

কাকের ঝাঁকে কচুরি দখল-

ডাহুক পেলো কাঁকের ধকল।

উড়ে, ডুবে বেঁচে গেলেও,

ছাড় দিলোনা বাজ'এর সানাঁই...।।


রণতরী মৎস্য বেশে,

ভেসে বেড়ায় অদূর দেশে।

হাওয়ায় ভাসা আহারকণায়,

গিলছে চিলে, সাপের ফণায়..!!

জলে ভাসে পোড়া খনিজ,

অন্তর বাঁচে ঈশারায়...।।


"শিকারী ২.০"

২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরা রিভারর্ভিউ

Sunday, 3 November 2024

বন্ধু তোমার নিজেকে কখনো ঘ্যান্না করেনি কেন..!?

 যেটুকু স্নেহে জয় করেছি মানুষের হৃদয়।

ততটুকুও যদি থাকতো অক্ষয়-

বুঝতে দেরি হতোনা তোমাতেই সঞ্চয়..।। 


তোমার আমার হিসেবের ভুলে-

মাশুল দিচ্ছি আমি।

আয়নায় শুধু নিজেকে দেখি ঝলসানো মুখখানি।

ভদ্র বেশে অসভ্যের মত শরীর বিলিয়ে দিচ্ছো-

আমার আমিকে যতই লুকাই -

তবুও লাগে তুচ্ছো।


তোমার আমার অঙ্ক কষতে হিসেব মিলেনি আমার, 

পিতৃ ধনে মাতৃদেবীর অঙ্কটা করবে আবার..!?

বন্ধু, তোমার নিজেকে কোনদিন -

ঘ্যান্না লাগেনা আয়নায় দেখার..!?

Wednesday, 16 October 2024

ময়ূর পঙ্খী নাঁও

 গ্রাম ছেড়ে শহরে থাকা সময় গুলো ছিলো উদাসিনতায়, স্পেস থাকা কর্পোরেট দাসত্ব ছেড়ে দু'দিন পর পর হাতিয়া চলে যেতাম প্রাণেরটানে, যাত্রাপথ বেছে নিতাম প্রিয় নদী।

যদিও হাতিয়া যাওয়ার একমাত্র রুট এই নদী'ই....

তবুও আগে যাবার হুতাশন ছিলো নারী,নাড়ীনক্ষত্র ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছুরই টানে...


খুলনা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে দিনের প্রথমপ্রহরে হাতিয়ার প্রথম প্রান্তে (শান্তিপুর ঘাট)

এই ঘাট ঐ ঘাট বারোঘাটের জল খেয়ে জোয়ারের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম, নদী নৌকা দেখতে দেখতে ভরদুপুরে মায়েরদুয়ারে....


মায়ের কাছে অল্প সময় বেয় করে আবার বেরিয়ে পড়তাম কাজীরবাজার,কমলার দিঘী, সূর্য্যমুখী বিভিন্ন নিরবস্থানে, রাতে বাসায় ফিরে সকালে আবার একি পথে শহরের উদ্দেশ্যে.... 


বারো তারিখে হাতিয়ায় ঢোকা, তেরো তারিখে কাপান্নিত হৃদয়ের আর্তনাদে এই লেখা, তখন মনে যা আসতো তাই লিখতাম...


ও মাঝিরে~

তুই কোন রূপে তরীবৈঠা ধরিস.!

 সাধ না মিটে যত দেখি..।

ময়ূরপঙ্খী ভাঙ্গা নায়ে,

উজানে কী করে বাস..!

ভয় নাই তাই নদীই তবে,

 তোর নিশ্বাস..।।


ও মাঝিরে~

 পালকি তোলে তোর'ই নায়ে,

উজানে আজ বাওরে;

তুই পাল তুলেদে তরী খানায়,

 বঁধু যাবে গাঁয় রে-

ও সে উজান বেয়ে ভাইধনের দেশে

  নাচবে মাথার কেশ..।।


অকুলে প্রাণ ভেসে যায়রে

দুলেযে নাও ঢেউয়ে,

অন্তরিক্ষ কালোঘনে উতাল হাওয়া বহে..।


ও মাঝিরে~

উচাটন মন কান্দে গাঁয়ের টানে প্রাণ,

মাঝি শৈবালিনী উতাল বহে

  ঢেউ খেলে জল নয়নে-

চিরচেনা আঁচলে মুখ লুকিয়ে শয়নে।

ও রে সুর ধরে নাওরী কান্দে,

 যাক ভেসে ভয় রেশ..।।


"ময়ূর পঙ্খী নাঁও"

সময়কাল

১২ জুলাই ২০১৭

বুলবুলি

 মাটি ফেটে যে বীজটি শ্বাসমূল ছাড়িয়ে আকাশ ছোঁবার স্বপ্ন নিয়ে ঊর্ধ গতিতে বাড়তে থাকে,

ঠিক সেভাবেই উল্টো দিকে বন্দুকের বুলেটের আঘাত পেলে উড়তে থাকা পাখিটাও ঘুরতে ঘুরতে মাটির নিচে এসে পড়ে, ঠিক ঐভাবেই, ঠিক ঐভাবেই আকাশ ছুঁতে চাওয়া পাতাটাও  শ্বাসমূলের তৃষ্ণায় মাটির বিষাক্ত বাষ্পীভূত জল আহারে অসহ্যে ঝরে পড়ে। 


বোশেখের সবুজ বনের মধ্যে একটা জীবন্ত কংকাল ধীর গতিতে শুকোতে থাকে, শুকনো ডাল ভাঙ্গে বাতাসে কিংবা কাকপক্ষীর বাসা বাঁধানোয়...


এলোমেলো এদিক সেদিক উড়তে থাকা হাহুতাশ এক বুলবুলি জিরান নিল পাতাশূন্য গাছের ডালে।

শাসন বারণ বিনয় প্রেম কতকথায় পূর্ণ হচ্ছে শূন্যস্থান। 

উদ্ধিগ্ন মনে গাছে থাকা বুলবুলি মাটির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে;

আকাশ ছুঁতে চাওয়া সবুজ পাতাটির মাটির সাথে হলুদ রঙে দোস্তি কেন..?

গাছ পাতার মোহ ছেড়েছে! নাকি পাতা গাছের..?


একটা গাছে বুলবুলি সে,

 নাচে মরু ডালে শাখে।

শীতের শৈতে পাতাঝরা গাছ,

 স্থির দাঁড়িয়ে শূন্যে ভাসে..।।


পাতাশূন্য গাছের ছালে, 

 কীটপতঙ্গ নিকাশ খোলে।

গন্তব্যহীন উড়তে থাকা

 বুলবুলিটার থামলো পাখা।

পাতাবিহীন গাছের দেহে

বিষন্নতার বিষ ছোবলে 

 মরুর তরু জলপিপাসে..।।


সুরেস্বরে  বুলবুলিতে বাঁধবে বাসা শূন্যগাছে,

প্রেমের কলিরা আঁকড়ে  আছে 

পবিত্রতায় শ্যাম আকাশে_


প্রথম আলোর সুদ্ধ স্নানে 

 কলকাকলির উপছে ভীড়, 

শতজন্মের  কাঠকুড়ালি

 শূন্য গাছেই খুঁজছে নীড়।

কর্ণরাজার তীর ধনুকে

 বুলবুলিয়ে গড়বে প্রাচীর

বললো ভালবেসে..।।


"বুলবুলি"

২৬শে আষাঢ় ১৪৩১

-------------

আলপিন

 সূর্যোদয়ের আলোর সুরে 

বাজলো নীরব সরোদ,

পাখিদের গানে জেগে উঠা আমায়,

নিয়ম করাতো পথ।

সমাবেশে মিছিলে সুরেগানে উন্মেষ সঞ্চিত বিষাদ..।। 


ঠোঁটজোড়াতে আঁকড়ে থাকা-

হাজার নষ্ট বুলি, 

ললাটে ক্যানভাসে নিভৃতে খোচালে সুচালো রঙতুলি।

আঁকা হয়নি বিষাক্ত হৃদয়, চিনতে পারিনি রঙ,

ভরা জোয়ারে স্রোতের সুরে বিজয়াদশমী গাঙ।

 শবদেহে রাঙিয়ে তুলেছি নিত্য উন্মাদ..।।


জ্যোৎস্নায় যেদিন করেছি তোমার, উষ্ণ আলোর গৌরব,

কালো ক্যানভাসে রাঙ্গিয়ে নিয়েছ, তোমারই লোভী সৌরভ। 


রাতের আঁধারে আকাশ কেঁদেছে-

বিষাদে বোজালে তরণী!

সে তরী ঠিকি ভাসবে একদিন, ডুবে মিথ্যেবানী।

কামনা তবু বাচুক নদী, বাচুক বৃক্ষমাটি,

সত্যেসন্ধানে আপোষহীনে অনন্তপ্রেম আঁকি।

পাথর চাপা মিথ্যে ভুলের হবেই অবসাদ..।।


"আলপিন"

১০ই চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ কেন?

 এক কাকু তার সন্তানকে মোটিভাইট করতো সারাক্ষণ। প্রতিটা পিতামহ'ই যেমন প্রতিটা সন্তানকে দার্শনিক জ্ঞান দেয়- ঠিক তেমনই। 


ভুলবসত ওনারই সন্তান আমাকে এসব শেয়ার করতেন।


"আমার বাবা আমাকে খুব ভালবাসে, যা চাই তাই দেয়, কোন কিছুরই কমতি রাখেনা, কিন্তু এ করা যাবেনা, সে করা যাবেনা, কিছু বেপারে খুবই জঘন্যতম জন্তুর রূপ নেয়। আমি ওনার সন্তান হয়েও আমার কিছু জিনিস খটকা লাগে, 

কী করতে পারি?"


বরাবরের মত আমার অকারণ হাসিটাই এসেছিলো তার কথা শুনে,

জিগেস করলাম তোমাদের বাবা যে তোমাদের সব চাহিদা পূরণ করে -

তোমরা  জানো এই অর্থের উৎস কী!

 কিংবা তোমাদের পিতার প্রচন্ড ঘামঝরা অর্থ দিয়ে তোমরা বিলাসিতা করছো নাতো!?

খবর নাও তো...!?


তার পিতার প্রতি অনেকগুলো অভিমানের ভেতর হাসতে হাসতে আমিও বলেছি;

এসো তোমাকে "পাপাত্মা" শোনায়...।


"নিষিদ্ধ যেথায়!

  সেথায় প্রশ্ন আসুক সবার প্রাণে।

কৌতূহল জাগুক 'নিষিদ্ধ কেন'?

  কে বা জানে?"


তোমার সুবিধায় তুমিই সঠিক,

কেন নৃশংসতায় আমার গলায়-

 তীরের ধনুক?

যদি তোমার অধিকারে তুমিও থাক!

আমার নিষেধ কেন"? 

কে বা জানে?


তুমি জাতের দোহায়ে

 বিবেকের দাবানল,

খুলিছ ভজনালয় রক্তজবায়। 

তবে তোমার ধর্ম কী?

তোমার অস্তিত্বে প্রশ্ন জাগেনা কেন?

কে বা জানে?


আমার সর্ব শেষ কথা ছিলো;

বাবারা সব সময়ই প্রভু সমতুল্য, তাদেরকে নিয়ে বিরক্ত হয়োনা, বাবা দিবস আসলে চোর বাটফারের সন্তানরাও বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা দেয়, সুতরাং বাবাকে অমর্যাদা করা যাবেনা, তুমি বা তোমরা হয়তো বাবাকে বুঝাইতে পারো, জানতে পারো, শিখতে পারো, প্রশ্ন করতে পারো যে, এটা এমন কেন..!


আপনি সামাজিক, সাম্প্রদায়িক কিন্তু অনৈতিক কেন!

আপনি সেকুলারকে সহ্য করতে পারেননা,আপনি অসাম্প্রদায়িকতা সহ্য করতে পারেননা কিন্তু আপনি চোর কেন! ঘুসখোর কেন! মিথ্যাচাপাবাজি করেন কেন! উপাসনালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেন কেন!

শুধু জানতে চাও! শুধু জানতে চাও!

শুধু জানতে চাওয়াটাই থাকুক এ প্রজন্মের ট্রেন্ড।

জাগো বৃক্ষ

 যতন করে রাখতে জানলে'

গোছানো বৃক্ষ ভাঙ্গেনা মূলে।

অভ্যাস যদি 'ধার' কদরে,

কাটা পড়বে জীবন তবে..।। 


বৃক্ষের নাম দিয়েছে ফলেই সুনাম, 

ফলের শোষণ উৎপিড়নে বৃক্ষেরই বদনাম।

বেমানান দেখি তাকে মোরা চার দেয়ালের চোখে..।।


-কালবৈশাখী আসবে যেদিন ঘুসের দেয়াল ভাংতে। 

বৃক্ষদেরই উল্লাস সেদিন দেয়াল ভেঙ্গে গড়তে। 


নদী বিক্রি খাল বিক্রি মালিকানা নাই যে!

ধান্দাবাজি বন্ধ হবে সোনা মণি বে।

এই মাটিতে আবার ফুটবে নানান রঙ্গের ফুল,

সেদিন আবার জেগে উঠবে প্রকৃতির নীরদ মূল।

যেদিন মোদের রক্ষে নেই- ভাসব তারই আঁখিপাতে..।।


       "জাগো বৃক্ষ"

      ০৪-বৈশাখ-১৪৩০