Wednesday, 16 October 2024

ময়ূর পঙ্খী নাঁও

 গ্রাম ছেড়ে শহরে থাকা সময় গুলো ছিলো উদাসিনতায়, স্পেস থাকা কর্পোরেট দাসত্ব ছেড়ে দু'দিন পর পর হাতিয়া চলে যেতাম প্রাণেরটানে, যাত্রাপথ বেছে নিতাম প্রিয় নদী।

যদিও হাতিয়া যাওয়ার একমাত্র রুট এই নদী'ই....

তবুও আগে যাবার হুতাশন ছিলো নারী,নাড়ীনক্ষত্র ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছুরই টানে...


খুলনা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে দিনের প্রথমপ্রহরে হাতিয়ার প্রথম প্রান্তে (শান্তিপুর ঘাট)

এই ঘাট ঐ ঘাট বারোঘাটের জল খেয়ে জোয়ারের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম, নদী নৌকা দেখতে দেখতে ভরদুপুরে মায়েরদুয়ারে....


মায়ের কাছে অল্প সময় বেয় করে আবার বেরিয়ে পড়তাম কাজীরবাজার,কমলার দিঘী, সূর্য্যমুখী বিভিন্ন নিরবস্থানে, রাতে বাসায় ফিরে সকালে আবার একি পথে শহরের উদ্দেশ্যে.... 


বারো তারিখে হাতিয়ায় ঢোকা, তেরো তারিখে কাপান্নিত হৃদয়ের আর্তনাদে এই লেখা, তখন মনে যা আসতো তাই লিখতাম...


ও মাঝিরে~

তুই কোন রূপে তরীবৈঠা ধরিস.!

 সাধ না মিটে যত দেখি..।

ময়ূরপঙ্খী ভাঙ্গা নায়ে,

উজানে কী করে বাস..!

ভয় নাই তাই নদীই তবে,

 তোর নিশ্বাস..।।


ও মাঝিরে~

 পালকি তোলে তোর'ই নায়ে,

উজানে আজ বাওরে;

তুই পাল তুলেদে তরী খানায়,

 বঁধু যাবে গাঁয় রে-

ও সে উজান বেয়ে ভাইধনের দেশে

  নাচবে মাথার কেশ..।।


অকুলে প্রাণ ভেসে যায়রে

দুলেযে নাও ঢেউয়ে,

অন্তরিক্ষ কালোঘনে উতাল হাওয়া বহে..।


ও মাঝিরে~

উচাটন মন কান্দে গাঁয়ের টানে প্রাণ,

মাঝি শৈবালিনী উতাল বহে

  ঢেউ খেলে জল নয়নে-

চিরচেনা আঁচলে মুখ লুকিয়ে শয়নে।

ও রে সুর ধরে নাওরী কান্দে,

 যাক ভেসে ভয় রেশ..।।


"ময়ূর পঙ্খী নাঁও"

সময়কাল

১২ জুলাই ২০১৭

বুলবুলি

 মাটি ফেটে যে বীজটি শ্বাসমূল ছাড়িয়ে আকাশ ছোঁবার স্বপ্ন নিয়ে ঊর্ধ গতিতে বাড়তে থাকে,

ঠিক সেভাবেই উল্টো দিকে বন্দুকের বুলেটের আঘাত পেলে উড়তে থাকা পাখিটাও ঘুরতে ঘুরতে মাটির নিচে এসে পড়ে, ঠিক ঐভাবেই, ঠিক ঐভাবেই আকাশ ছুঁতে চাওয়া পাতাটাও  শ্বাসমূলের তৃষ্ণায় মাটির বিষাক্ত বাষ্পীভূত জল আহারে অসহ্যে ঝরে পড়ে। 


বোশেখের সবুজ বনের মধ্যে একটা জীবন্ত কংকাল ধীর গতিতে শুকোতে থাকে, শুকনো ডাল ভাঙ্গে বাতাসে কিংবা কাকপক্ষীর বাসা বাঁধানোয়...


এলোমেলো এদিক সেদিক উড়তে থাকা হাহুতাশ এক বুলবুলি জিরান নিল পাতাশূন্য গাছের ডালে।

শাসন বারণ বিনয় প্রেম কতকথায় পূর্ণ হচ্ছে শূন্যস্থান। 

উদ্ধিগ্ন মনে গাছে থাকা বুলবুলি মাটির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে;

আকাশ ছুঁতে চাওয়া সবুজ পাতাটির মাটির সাথে হলুদ রঙে দোস্তি কেন..?

গাছ পাতার মোহ ছেড়েছে! নাকি পাতা গাছের..?


একটা গাছে বুলবুলি সে,

 নাচে মরু ডালে শাখে।

শীতের শৈতে পাতাঝরা গাছ,

 স্থির দাঁড়িয়ে শূন্যে ভাসে..।।


পাতাশূন্য গাছের ছালে, 

 কীটপতঙ্গ নিকাশ খোলে।

গন্তব্যহীন উড়তে থাকা

 বুলবুলিটার থামলো পাখা।

পাতাবিহীন গাছের দেহে

বিষন্নতার বিষ ছোবলে 

 মরুর তরু জলপিপাসে..।।


সুরেস্বরে  বুলবুলিতে বাঁধবে বাসা শূন্যগাছে,

প্রেমের কলিরা আঁকড়ে  আছে 

পবিত্রতায় শ্যাম আকাশে_


প্রথম আলোর সুদ্ধ স্নানে 

 কলকাকলির উপছে ভীড়, 

শতজন্মের  কাঠকুড়ালি

 শূন্য গাছেই খুঁজছে নীড়।

কর্ণরাজার তীর ধনুকে

 বুলবুলিয়ে গড়বে প্রাচীর

বললো ভালবেসে..।।


"বুলবুলি"

২৬শে আষাঢ় ১৪৩১

-------------

আলপিন

 সূর্যোদয়ের আলোর সুরে 

বাজলো নীরব সরোদ,

পাখিদের গানে জেগে উঠা আমায়,

নিয়ম করাতো পথ।

সমাবেশে মিছিলে সুরেগানে উন্মেষ সঞ্চিত বিষাদ..।। 


ঠোঁটজোড়াতে আঁকড়ে থাকা-

হাজার নষ্ট বুলি, 

ললাটে ক্যানভাসে নিভৃতে খোচালে সুচালো রঙতুলি।

আঁকা হয়নি বিষাক্ত হৃদয়, চিনতে পারিনি রঙ,

ভরা জোয়ারে স্রোতের সুরে বিজয়াদশমী গাঙ।

 শবদেহে রাঙিয়ে তুলেছি নিত্য উন্মাদ..।।


জ্যোৎস্নায় যেদিন করেছি তোমার, উষ্ণ আলোর গৌরব,

কালো ক্যানভাসে রাঙ্গিয়ে নিয়েছ, তোমারই লোভী সৌরভ। 


রাতের আঁধারে আকাশ কেঁদেছে-

বিষাদে বোজালে তরণী!

সে তরী ঠিকি ভাসবে একদিন, ডুবে মিথ্যেবানী।

কামনা তবু বাচুক নদী, বাচুক বৃক্ষমাটি,

সত্যেসন্ধানে আপোষহীনে অনন্তপ্রেম আঁকি।

পাথর চাপা মিথ্যে ভুলের হবেই অবসাদ..।।


"আলপিন"

১০ই চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ কেন?

 এক কাকু তার সন্তানকে মোটিভাইট করতো সারাক্ষণ। প্রতিটা পিতামহ'ই যেমন প্রতিটা সন্তানকে দার্শনিক জ্ঞান দেয়- ঠিক তেমনই। 


ভুলবসত ওনারই সন্তান আমাকে এসব শেয়ার করতেন।


"আমার বাবা আমাকে খুব ভালবাসে, যা চাই তাই দেয়, কোন কিছুরই কমতি রাখেনা, কিন্তু এ করা যাবেনা, সে করা যাবেনা, কিছু বেপারে খুবই জঘন্যতম জন্তুর রূপ নেয়। আমি ওনার সন্তান হয়েও আমার কিছু জিনিস খটকা লাগে, 

কী করতে পারি?"


বরাবরের মত আমার অকারণ হাসিটাই এসেছিলো তার কথা শুনে,

জিগেস করলাম তোমাদের বাবা যে তোমাদের সব চাহিদা পূরণ করে -

তোমরা  জানো এই অর্থের উৎস কী!

 কিংবা তোমাদের পিতার প্রচন্ড ঘামঝরা অর্থ দিয়ে তোমরা বিলাসিতা করছো নাতো!?

খবর নাও তো...!?


তার পিতার প্রতি অনেকগুলো অভিমানের ভেতর হাসতে হাসতে আমিও বলেছি;

এসো তোমাকে "পাপাত্মা" শোনায়...।


"নিষিদ্ধ যেথায়!

  সেথায় প্রশ্ন আসুক সবার প্রাণে।

কৌতূহল জাগুক 'নিষিদ্ধ কেন'?

  কে বা জানে?"


তোমার সুবিধায় তুমিই সঠিক,

কেন নৃশংসতায় আমার গলায়-

 তীরের ধনুক?

যদি তোমার অধিকারে তুমিও থাক!

আমার নিষেধ কেন"? 

কে বা জানে?


তুমি জাতের দোহায়ে

 বিবেকের দাবানল,

খুলিছ ভজনালয় রক্তজবায়। 

তবে তোমার ধর্ম কী?

তোমার অস্তিত্বে প্রশ্ন জাগেনা কেন?

কে বা জানে?


আমার সর্ব শেষ কথা ছিলো;

বাবারা সব সময়ই প্রভু সমতুল্য, তাদেরকে নিয়ে বিরক্ত হয়োনা, বাবা দিবস আসলে চোর বাটফারের সন্তানরাও বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা দেয়, সুতরাং বাবাকে অমর্যাদা করা যাবেনা, তুমি বা তোমরা হয়তো বাবাকে বুঝাইতে পারো, জানতে পারো, শিখতে পারো, প্রশ্ন করতে পারো যে, এটা এমন কেন..!


আপনি সামাজিক, সাম্প্রদায়িক কিন্তু অনৈতিক কেন!

আপনি সেকুলারকে সহ্য করতে পারেননা,আপনি অসাম্প্রদায়িকতা সহ্য করতে পারেননা কিন্তু আপনি চোর কেন! ঘুসখোর কেন! মিথ্যাচাপাবাজি করেন কেন! উপাসনালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেন কেন!

শুধু জানতে চাও! শুধু জানতে চাও!

শুধু জানতে চাওয়াটাই থাকুক এ প্রজন্মের ট্রেন্ড।

জাগো বৃক্ষ

 যতন করে রাখতে জানলে'

গোছানো বৃক্ষ ভাঙ্গেনা মূলে।

অভ্যাস যদি 'ধার' কদরে,

কাটা পড়বে জীবন তবে..।। 


বৃক্ষের নাম দিয়েছে ফলেই সুনাম, 

ফলের শোষণ উৎপিড়নে বৃক্ষেরই বদনাম।

বেমানান দেখি তাকে মোরা চার দেয়ালের চোখে..।।


-কালবৈশাখী আসবে যেদিন ঘুসের দেয়াল ভাংতে। 

বৃক্ষদেরই উল্লাস সেদিন দেয়াল ভেঙ্গে গড়তে। 


নদী বিক্রি খাল বিক্রি মালিকানা নাই যে!

ধান্দাবাজি বন্ধ হবে সোনা মণি বে।

এই মাটিতে আবার ফুটবে নানান রঙ্গের ফুল,

সেদিন আবার জেগে উঠবে প্রকৃতির নীরদ মূল।

যেদিন মোদের রক্ষে নেই- ভাসব তারই আঁখিপাতে..।।


       "জাগো বৃক্ষ"

      ০৪-বৈশাখ-১৪৩০

শিকারী


কালো কুঞ্জে আলো এলো, 

উই পোকা সব সাড়া পেলো।

এসো খেলি? ভাল কাটুক বেলা।

সন্ধ্যাকালে জ্বলছে আলো,

চলছে আলোর মেলা..।। 


আলো পেয়ে কুঞ্জে এলো রঙিন প্রজাপতি,

শ খানেক পোকা নিয়ে অন্য প্রজাতি। 

তারা মাটিত পড়ে, আবার উড়ে,

খেলছে হলি খেলা।

সন্ধ্যাকালে জ্বলছে আলো,

চলছে আলোর মেলা..।। 


ঘাস ফড়িংয়ে মিসাইল দৌড়ে, পাখনায় নাচে আরতি।

ভেঙ্গে পড়া পাখনা নিয়ে, পিপড়ার বসতি...


খরের বেড়ার ওপাশ থেকে এলো টিকটিকি, 

ক্ষুধার রাজ্যে শিকার বেশে পেলো সে তৃপ্তি।

নিয়ম খাঁচায় বন্দিমোরা, যে যার স্বার্থে উতলা।

সন্ধ্যাকালে জ্বলছে আলো,

চলছে আলোর মেলা..।।

      বাইশ/তিন/তেইশ

শিনাটান

 বৃক্ষে মরণ ব্যধি গ্রাস করে,

 আমরা তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য কাজ করি।

হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন;-


 ""ঘূর্ণি ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করেই বাঁচি আমি, ঘূর্ণিপাকে আমার ডাল-পালা ভাঙলেও মূল ভাঙেনা, মন ভাঙেনা।

যদি পারো তবে আমার দেহের সাথে বাতাসের ঘর্ষণ করা ঝড়ের গতি কমাও! তবুও মূলহীন মরা গাছের ঠেক দেবার প্রয়োজন নাই। মৃত বৃক্ষ আমাকে সাহায্য করবে কিভাবে!

তার নিজেরই শেকড় নেই, মৃত্তিকা নেই।

বাঁচলে আমি স্থীর হয়ে বাঁচবো।

মরলে ধীরে মরবো।""


মানবের পক্ষেতো আর ঝড়ের গতি কমানো সম্ভব নয়,ঘূর্ণির ঘোর কেটে গেলে বৃক্ষদের হৈহুল্লোড় শুরু হয়ে যায়,  আকাশ বাতাশ, চাঁদ সূর্য্য তারকারাজির সাথে অসুখ-বিসুখ, শোক-শান্তি নিয়ে ব্যাপক কথোপকথন,আলোচনা সমালোচনা  চলে, আমরা সে রুপ দেখিনা।


আমরা দেখি কালকের আকাশ ছোঁয়া গাছ গুলো আজকে মাটির সাথে দুস্তি, আমাদের দিয়েছেন স্বস্তি।  

টুকরোটুকরো হয়ে রয়েছেন, তাদের আমরা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করি,যদি প্রয়োজন পড়ে বাঁকি অংশ আসবাবপত্র বানিয়ে সমাজ, সংসার, সংস্কার করি।


আর যে বৃক্ষটা বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!

সে বিদ্রোহী।

চির উন্নত শির।


তিন/ মার্চ/একুইশ

ভাবতে মানা

 ভাবছি বসে তোমার কথা চৌরাস্তার মোড়ে,

ভাস্কর্য আমি পথিক দুচোখ সঙ্গোপনে।

তাকিয়ে থাকি কোণায় কোণায় -

শতেক লোকের ভীড়ে।

উড়ছো তুমি কোন আকাশে জানতে ইচ্ছে করে!

কত ইচ্ছে আসে যাচ্ছে,ভাবতে ভীষণ মানা।


নিয়ম নীতির বেড়াজালে বন্দি যখন দূর,

তোমার কন্ঠ যায়না শোনা, বাহন করে সুর।

যে যার সুরে যাচ্ছে নীড়ে, গল্প সবার জানা,

তবু নিয়ন আলোয় ভাবছি বসে -

নেইকো কারো মানা।


যে যার ব্যথায় পাশ কাটিয়ে নিচ্ছে নিকোটিন,

আমার কাছে আজো তোমার, শোধ হয়নি ঋণ।

ঠোটের কোণে মিষ্টি হাসির সঙ্গে নাচে ধোঁয়া,

কংক্রিটেরি মাঝখানে এক জীবন্ত লাশ শোয়া।

তবু নিস্তব্ধ সবার সনে-

 নিত্য জানা শোনা।

      

                

                    টিএসসি

               ৭/১২/একুইশ

ডুমুরফুল

 নিরবধি,

  ভাসালে আঁখি।

চাতকিনী, 

   নীরব থেকোনা।

ফিরে এসো

  আসিলে রাতি।।


আশাতে রাখিলে

  নোনাতে ভাসায়ে

কাটেনা মধুরাতি।


চাতকিনী, 

  নীরব থেকোনা।

ফিরে এসো 

  আসিলে রাতি।


অনুরাগে জড়ায়ে

  কেন ছেড়ে গেলে।

উদাসিনী হলে বলো

  কোন অভিমানে? 

নিরিশা মোর-

  জ্বেলে দাও বাতি।।


------খেয়াল-----

০৩/০৩/একুইশ।

অন্তর্যামী

 উড়িয়ে দিলাম বন্দী পক্ষি, ঘর বাঁধিস ঐ পাড়ে।

আমার কাছে শূন্য খাঁচা থাকনা তবে পড়ে।

সে খাঁচায় পাতা দেব, জল দেব, আহার করব আমি।

তোর মতন তুই ঘুরেবেড়া, তুই'ই অন্তর্যামী।

 

:-উড়ে উড়ে চাতকরে তোর মেঘের জলে আশ,

ভাঙ্গা নাও মাঝি-আমার গভীর জলে বাস।

তুই আমায় ধুমড়ে-মুচড়ে, কাঁচের জলে, জল ফুটিয়ে, করলি ভীষন দামী।

তোর মতন তুই ঘুরেবেড়া, তুই'ই অন্তর্যামী।


:-সন্ধ্যে হলে সকল পাখি ছুটে যায় নীড়ে,

কান পাতিয়ে শব্দ নিই তোর, শতেক পাখির ভীড়ে।

গাঙ্গের পাড়ে, পূর্ণিমাতে, চাঁদের আলোয়, তোরই ছাঁয়ায়, পড়ে আছি আমি।

তোর মতন তুই ঘুরেবেড়া, তুই'ই অন্তর্যামী।


--------------------

৩০/১২/বিশবিশ

উজান তরীর মাঝি


নির্মাণ কাল- ২২-০৪-২০১৮


মেঘে মেঘে ঢেকে ছিল-

   তোমার শূন্য দেহ,

আমি বারি আসব চুপি -

জানবে নাতো কেহ।

স্তব্ধ সুরে ঘুরব দুজন

পাহাড়,বৃক্ষে,নদী,

ভাঙ্গা নাও বাইছি আমি উজান তরীর মাঝি।।


হাওয়ায় ভেসে আসব আমি-

তুমি করবে চঞ্চলা,

আঁধার হবে গগনতলে-

দেখবে বৃষ্টিরা,

তুমি আমি হাসব দুজন-

     উতাল গন্ধবহ।।


একুল ওকুল ছুঁয়ে দুজন-

দেখব পৃথিবী,

নীরদ ঘরে বসত করে-

করব যে দীপ্তি,

তুমি আমি উদাস সুরে,

দেখব চন্দ্রগ্রহ।।

নির্বাসন

 


ওরে মন, যায় চল,

কিছু বল, ভেঙ্গে  শিকল..

ওরে মন, শূন্য মন, যায় চল,মোদের ডাকছে নির্বাসন...।। 


তোমায় বোঝাতে পারিনি আমি,

ও মন উপহাসের পাতায় তুমি-

আটকে আছো জানি,

নেইতো তোমার স্বাধীনতা আজ,

ও মন তুমি করোনা রঙ্গন..।।


এই স্থানটা তোমার নয়,

এখানে ঝড় বাদলে, অতিথি পাখি,

উড়ে এসে বসে রয়-

তোমার ভোর বেলা কী সন্ধা বেলায়,

ও মন নেইকো বলার মান..।।


তুমি একলা চলো মন,

একলা ভাসো তোমার জলে,

গহীন স্রোতের নীড়ে-

বারে বারে হাত পাতিলে, তীরের কাছে তোমার, হবেনা সম্ভাষণ...।।

তোমার স্পর্শ

 কতদিন আসনি তুমি, আমার স্বপ্ননীড়ে,

খুঁজে বেড়াই তোমায় আমি,  হাজার লোকের ভীড়ে।

একলা বাঁশি বাজাই আমি, স্তব্ধ ঘুমের দেশে,

তোমার সুরে বাইছি তরী,

উজান গাঙ্গে ভেসে..।।


:-কতদিন চোখে চোখ পড়েনা,

কতদিন খাইনি জল।

তোমার তৃষ্ণায় ক্ষুন্ন হয়ে,

দেখছিনা কী মঙ্গল। 

ঝাপসা দেখি কতদিন ধরে-

বহুদিন ছুঁইনি খোঁপা,

কতদিন তোমার ললাটে আমার, কপাল দেইনি ঘেঁষে..।।


_কতদিন তোমার ঠোটের কোণে,

তিলটাকে দেইনি শ্বাস,

কতদিন তোমার তনুতে আমি,

রাখিনি আশ্বাস।


:- কতদিন তোমার হৃদপিন্ডের শব্দ শুনিনি,

কতদিন তোমায় দ্রৌপদী ঢঙ্গে নাচতে দেখিনি।

কতদিন তোমার চুমুর স্বাদে, যাইনি ঘুমোতে,

দেখিনি আমার বিশ্রামে তোমায়, বহুদূর যাচ্ছি ভেসে..।।

বাউন্ডুলে

 আলাপ;

মাঝি হয়ে ঘুরি আমি-

অচিন পুরের গঞ্জে....

গান ধরেছে মনের চারায়,

বাউল নাচে রঙ্গে।


-বাউলের একতারাটা,

দিল আমায় তুলে।

গান ধরেছে মনের চারায়,

বাউন্ডুলে।।


:-নদীর জলে ঊর্মি খেলি-

সুরের মহানন্দে,

মাঝি হয়ে ঘুরি আমি -

অচেনা নিকুঞ্জে (২)

বাতাসের শব্দ শোনে-

কেটে যায় বেলা,

আর, সুরের ভব ঘুরে হলাম-

আত্মভোলা (২)

আকাশের মেঘ দেখিয়ে ভাসি নদীর জলে,

পাতার বাঁশি বাজাই আমি গাঙ্গেরি পাড়ে.।।


:-বেলা শেষে চাঁদনি রাতে-

নাও থামিয়ে দাঁড়াই,

চাঁদকে ডাকি আমার বুকে-

ঊর্ধে দুহাত বাড়াই(২)

নিঝুম রাতে তারা গুনে-

কেটে যায় রাত,

তুমি আমি হাসবো চুপি-

ধরো আমার হাত..(২)

সুরে সুরে ভাসবো দুজন একতারাটা নিয়ে,

মনের সুখে গাইবো গান, নাও উজান গাঙ্গে।।

দূর্নীতি



তুমি সরকারী কর্মচারী,

দেশটা তোমার বাবার-

তাই প্রতিটি স্থানে তুমি গড়েছো ঘর বাড়ি।

তোমার জন্য আজ-

লাখো শহীদের রক্তবৃথা,

তারা স্বাধীন করেছে বলে-

দেশের ধূলিকণার বেড়েছে লজ্জা।।


সকালে উঠে স্নান-

রুপচর্চায় করছো ম্নান,

তার পর দেখেছো অফিস টাইম।

সরকারী কোয়াটারে-

দিন রাত না ভেবে,

করছো রাজত্ব নিজের মত করে।

জনগণ তোমার কী!?

আছো তুমি কল্পনার জগতে,

বুঝবে তুমি কী বাস্তবতা!?

তোমার জন্য আজ দেশের ধূলিকণার বেড়েছে লজ্জা।।


আমার ক্ষমতা নেই; তোমার আছে বলে;

আমার ভিটে মাটি খায় চিলে!

অন্যের লাখ টাকার লোভ নিয়ে,

অফিসের সব ফাইল-

আমাকেই দিচ্ছো অগ্নি ঢেলে।

তোমার কাছে আমার নেই ঘামের দাম,

পাছে তোমার আছে বিদেশি পারফিউম।

ঘুষের টাকা তোমার ঔষধে পরিনত-

জনগণ চোখে পড়লে,

চশমাটায় দেখো আজ ঝাপসা।

তোমার জন্য আজ দেশের ধূলিকণার বেড়েছে লজ্জা।।


নিজের অপরাধ গোপন করা তোমার ধর্ম,

বড় তৃপ্তিতে চলছে তোমার অসভ্য কর্ম।

মাদক আর দূর্নীতি দুটি'ই সমান অপরাধ,

কিন্তু ক্ষমতার জোরে তোমার ব্যবসা করেছো অগাধ।

মাদককে না বলে, দূর্নীতি হ্যাঁ বলে, চালিয়েছো রমরমা ব্যবসা।

তোমার জন্য আজ দেশের দূলিকনার বেড়েছে লজ্জা।।

বসন্ত



তুমি প্রভাতের ভৈরবী সুর,

তুমি ঠাকুর ঘরের শুদ্ধ ঘ্রাণ-

 ফুলপল্লবের।


তুমি মোল্লা বাড়ির গৃহবধূর-

চুলের ঝাঁকুনি,

তুমি তসবিহ শেষে-

পূব দিকের দিনমণি।


তুমি সকালে পাখির গুঞ্জন-

 মাঠে কৃষকের কন্দর্প,

তুমি বাঙ্গালি নারীর পাদুকা ছাড়া-

মৃত্তিকা স্পর্শ।


তুমি দুপুর বেলার অগ্নিভানু-

তৃষ্ণার্তের তৃপ্তয় জল,

তুমি শালিক পাখির পুকুর ঘাটে-

স্নানে উজ্জ্বল।


তুমি গোধূলীর স্নিগ্ধ বাতাস-

কোকিলে সাধন স্বর,

অন্নপ্রশন পেয়েছে আজ-

ক্ষ্যাপার মন'ঘর।


তুমি সন্ধেবেলায় ইমন খেয়াল-

পূজোর ধুপের গন্ধ,

তুমি মোয়াজ্জিনের মিষ্টি আযানে-

সুরের মহানন্দ।


তুমি নিঝুম রজনীর চৈতালি চাঁদিনি-

সুরের রাজ্যে-

চোখ মেলে দেখা অনুক্ষণ,

তুমি ঘুমের ঘোরে গভীর রাগের-

স্বর্গের হিরণ।


হে ন্ব-বসন্ত.!

তুমি বঙ্গদেশে বঙ্গ ভাষায়,

থাকবে আদি অন্ত..।।

প্রাণ পক্ষী এসে



প্রাণ পক্ষী এসে,

জলে ভেসে-

বাইছে তরী,

উজান গাঙ্গে.!

একা সে যে বসে আছে,

কারে খোজে কেবা জানে।।


:-এপার রয়ে ওপার বসে,

কতশত জমিন হৃাসে-

প্রাণ গোবিন্দ গেল খসে,

ধ্যৈর্যের মৃত্তি কেবা জানে।।


:-নিশি জাগা পাখির মত,

বাইছে মন নাও ইচ্ছে যত-

জল উঠিছে অঙ্গ ঘরে-

সাগর ঊর্মি একা রণে।।


:-গৌরাঙ্গের এই রুপের সনে-

স্তব্ধ আমি ক্ষণে ক্ষণে,

বাসনা মোর এসো প্রাণে-

দুলাবো ফুল তোমার কর্ণে।।

বিভোর


   


:স্বপ্ন বিভোর এক স্মৃতি  কথা-

এলোকেশে সৃষ্টি করেছে বিধাতা,

অম্বর চুম্বি করে রয়েছে তমিস্রা-

আমি জানি সে আমার মোনালিসা।।


-নিশিতে জাগিয়া চন্দ্রীরও লাগিয়া

সান্ত্বনা নাহি চাহিয়া,

স্থীর হয়ে আছি সে চাঁদের ও লাগিয়া


:-আরতির ঢঙ্গে মন নাচে রঙ্গে, 

রয়েছি তারি সাথে নিশিতে জাগিয়া,

মুঠো ভরা অলকেরো-

খেলিছে মন তরঙ্গ,

মনে হল সে এলো সহসা।। 


নিমিষেই ক্লান্তিত সমাপ্তি নিদ্রিত-

তনুতে শম্পা তাইতো তুমি ডঙ্কা,

প্রদীপের মত জ্বলে 

ঝিনুঁকের মুক্তা হলে,

ঘুমো ঘরে এসে তুমি করেছ

কাশের বাগিচা।।

"সৃষ্টি স্মৃতির অস্তিত্ব স্মরণ থাকুক"


জীবন বদলে নিলেও স্মৃতির অস্তিত্ব মুছে ফেলা যায়না, দৈনন্দিন জীবনে যে নিজেকে যতই ব্যস্ত রাখুক স্মৃতি তাকে স্মরণ করাবেই।

জীবন বদলালেও অতীত মুছে ফেলা যায়না।


অতীতের দুঃখ কষ্ট গুলোকে স্মরণ করেই জীবের জীবন পরিচালনা করা খুব জরুরী, 

সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে নতুন কিছু জানার জন্যই ইতিহাসবিদরা এখনো হরপ্পা সভ্যতা নিয়ে জানে,পড়ে,শোনে, মানে....

আবার অতীত ভুলে যায় যিনি তিনি আর সতিত্ব জীবের অস্তিত্ব কখনোই খুঁজে পায়না, প্রকৃতি কাওকে কখনোই ক্ষমা করেনা, ইংরেজিতে যাকে বলে "Revenge Of Nature"


এই পৃথিবীর এতএত জমিদারির মধ্যে আমি এক নগন্য জীবের আর্তনাদ-

"পৃথিবীটা জীবের হোক"

"পৃথিবীর মানুষ গুলো কৃতজ্ঞ থাকুক"

"কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুক"

"সভ্যতা জেগে উঠুক"

 ইতিহাস, সম্মান, স্মৃতি, অতীত বেঁচে থাকুক যুগযুগ..।।


জয় হোক মনুষ্য সমাজের 🙏